এক্সক্লুসিভ

দুই স্ত্রী রেখে প্রবাসীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিলেন শ্রমিক লীগ নেতা!

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে দুই স্ত্রীকে রেখে প্রবাসীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ে করেছেন পৌর শ্রমিক লীগের সভাপতি আলাল সর্দার। তার বিরুদ্ধে খুন, মা’রধ’রসহ ,,,,

একাধিক মা’ম’লা রয়েছে। কাওসার মিয়া নামের ওই প্রবাসীর বড় ভাই লাক মিয়া গত মঙ্গলবার বিকেলে দুর্গাপুর থানায় অ’ভি’যোগ

দাখিল করেছেন। অ’ভিযো’গের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান।

জানা যায়, বাবা-মায়ের পছন্দে উপজেলার কাকৈরগড়া গ্রামের মনি আক্তারকে (২৫) বিয়ে করেন কাওসার। বিয়ের প্রায় এক বছর পর সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে সৌদি আরব চলে যান কাওসার। বিদেশ যাওয়ার পরই তাদের সংসারে মহতাসিন বিল্লাহ নামের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।

কাওসারের স্ত্রী মনি আক্তার স্থানীয় একটি কলেজে বিএ অধ্যয়নরত হওয়ায় তার সন্তানসহ শাশুড়িকে দিয়ে দুর্গাপুর পৌর শহরে বাসা ভাড়া করে থাকার সুযোগ করে দেন কাওসার। সেখানে কাওসারের স্ত্রী একা থাকায় শ্রমিক লীগ নেতা আলাল সর্দারের সঙ্গে প’রকী’য়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে কাওসারের স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ে করেন আলাল সর্দার।

কাওসার মিয়া জানান, তার স্ত্রীর সঙ্গে দুর্গাপুর পৌর শহরের পৌর শ্রমিক লীগ সভাপতি আলাল সর্দারের পরকীয়া প্রেম ছিল। তার স্ত্রী বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা-স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ওই শ্রমিক নেতার সঙ্গে ভেগে গিয়েছেন।

অ’ভিযোগ’কারী লাক মিয়া বলেন, ‘দুই বছর আগে আমার বাবা দুর্গাপুর কাওসারের বউকে দেখতে আসলে তার সঙ্গে খা’রাপ ব্যবহার করে। এ ঘটনার দুদিন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃ’ত্যুব’রণ করেন। আমার ছোট বোন ও তার আত্মীয়রা কাওসারের ছেলেকে দেখতে গেলে তাদের জীবননাশের হু’মকি দেওয়াসহ বিদেশে থাকা আমার ভাইকে মে’রে ফেলার হু’মকি দিয়েছেন আলাল সর্দার। আমরা এখন ওই ক’লঙ্কিত বউ ফেরত নিতে চাই না। আমার ভাইয়ের টাকা-পয়সা, সম্পদ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ ভাইয়ের সন্তানকে ফেরত দেওয়ার জন্য থানায় অ’ভিযোগ করেছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলাল সর্দার আগে তিনটি বিয়ে করেছেন। একটি স্ত্রীকে ডিভোর্স দিলেও এখনো তার ঘরে দুই স্ত্রী রয়েছেন। তিনি তিন সন্তানের জনক।

দুর্গাপুর পৌর এলাকায় আলাল সর্দারের বি’রুদ্ধে সরকারি জমি দখল, নামে-বেনামে পাঁচটি বাড়ি নির্মাণ, জমি দখলকে কেন্দ্র করে অসহায় কামালকে মা’রধ’র, শুটকি ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে মা’রধ’র, পৌর সদরের বালু মহালে শ্রমিক মা’রধ’রের অ’ভিযো’গ রয়েছে। তার নামে খু’নের মা’মলাও রয়েছে।

প্রবাসীল স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করার বিষয়ে আলাল সর্দার মুঠোফোনে বলেন, ‘আমাকে জড়িয়ে যে অ’ভিযো’গ করা হয়েছে তা সত্যি নয়। আমি মনি আক্তারকে নিয়ম মেনেই বিয়ে করেছি। বিয়ের পূর্বে কাওসারকে ডিভোর্সও দেওয়া হয়েছে।’

নানা অ’নিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আলাল বলেন, ‘আমি কোনো অ’নিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। যার টাকা আছে তার বি’রুদ্ধে অ’নিয়মের অ’ভিযোগ উঠতেই পারে।’

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রবাসীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ের বিষয়ে একটি অ’ভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

Comment here